মোহনবাগান দিবসে উপেক্ষিত ১১-র যোদ্ধারা। প্রাক্তনদের সম্মান রাখতে ব্যর্থ মোহনবাগান।


বেঙ্গল ফুটবল নিউজ ডেস্ক, ৩০ জুলাই, ২০১৮

           গতকাল ২৯ জুলাই-এ বেশ জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে পালিত হলো মোহনবাগান দিবস। এদিন বাগান শিবিরে সারাদিন ধরেই চললো নানান অনুষ্ঠান। তার সঙ্গেই সম্মানিত করা হলো দলের বর্ষসেরা অধিনায়ক সহ আরও অনেককেই। কিন্তু তবুও বড়ো ভুল করে বসলেন বাগান কর্তারা। যাদের জন্য এই বিশেষ দিবস উদযাপন, তাদেরই কীনা কোনো খোঁজ নিতে ভুলে গেলেন বাগান কর্তারা!! যদিও বাগান শিবিরে এমন আরও অনেক উদাহরণ বর্তমান, যেমন - একদা মোহনবাগানের ঘরের ছেলে হিসেবে পরিচিত সুব্রত ভট্টাচার্য চিরাগ ম্যাচে চিরাগের কোচ হয়ে এলে তাকে আঘাত করে কিছু মোহনবাগান সমর্থকেরা, বাগান কর্তৃপক্ষ সেসময় সামনে থাকলেও সেই ঘটনা তারা প্রতিহত করতে পারেননি, একে বাগান কর্তৃপক্ষের এক ব্যর্থতাই বলা যায়। এছাড়াও মোহনবাগান কর্তারা অনেক সময়ই অবহেলা করেছেন তাদের প্রাক্তন ফুটবলারদের। 




            হ্যাঁ,  এই ২৯ জুলাই যে দিনটিতে গর্বের সঙ্গে ঘটা করে পালিত হয় মোহনবাগান দিবস, সেই দিনটি আসলে যাদের দান তাদের হয়ে তাদের কোনো প্রতিনিধিকেই এদিন ক্লাব তাবুতে ডাকলেন না মোহনবাগান শিবির। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে এই দিনটিতেই মোহনবাগান বাহিনী ব্রিটিশ ফুটবল বাহিনী ইস্ট ইয়র্কসায়র রেজিমেন্টকে পরাজিত করে জিতেছিলেন আই এফ এ শিল্ড। সেই বাহিনীতে থাকা ১১ জন যোদ্ধার সাফল্যেই ২৯ জুলাই করে পালিত হয় মোহনবাগান দিবস। অথচ যাদের জন্য এই দিনটি উপহার পেয়েছিল বাগান শিবির এখন তাদেরই স্মরণ করাটা বাগান শিবিরে হয়ে দাড়িয়েছে এক লোক দেখানো নাটক। এদিন ক্লাবের অনুষ্ঠানে প্রাক্তন খেলোয়াড় ব্যারোটাকে বাগান কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ জানালেও, আমন্ত্রণ পত্র পৌঁছায়নি অমর ১১ এর পরিবারের নিকট। এই ঘটনা থেকে কি এটাই ধরে নেওয়া যায় যে বাগান কর্তাদের ইতিহাস মনে রাখাটা ক্ষণস্থায়ী, শুধুমাত্র লোক দেখানো?  


           মোহনবাগান দিবসের দিন বারবার অমর ১১-র নামে জয়ধ্বনি দেওয়া হলেও, আসলে তা পুরোটাই লোক দেখানো। অমর একাদশ বাহিনীর অন্তর্গত অভিলাস ঘোষ, শিবদাস ভাদুরি, সুধীর চ্যাটার্জি প্রমুখরা প্রয়াত হয়েছেন অনেক আগেই, কিন্তু তারপর থেকেই আর কখনও কোনো বাগান দিবসে ডাকা হয়নি তাদের পরিবারের সদস্যদের। অমর ১১ বাহিনীর অনেকের বাড়ির সদস্যরা অনেক দুঃখের সহিত জানিয়েছেন যে, বাগান শিবির থেকে কখনও কেউ তাদের খোঁজ করতে আসেননি। বাগান শিবিরের সবচেয়ে গর্বের দিনটির সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্য যুক্ত থাকলেও পরবর্তিতে সেই পরিবারগুলোর কোনো সদস্যদের দেওয়া হয়নি মোহনবাগান সদস্যের কার্ড। ডাকা হয়নি এই মোহনবাগান দিবসেও। ক্লাব কর্তাদের এহেন আচরণে নিঃসন্দেহে দুঃখিত অমর ১১ এর পরিবারবর্গ। আসল যোদ্ধাদের নাটুকে জয়ধ্বনি দিয়ে কি আদৌ এই গর্বের দিনটি পালন করা সম্ভব??  আপনারাই মতামত দিন।

No comments