জেলে ঢোকানোর হুমকি কলকাতা লিগের ফুটবলারদের। জানতে পড়ুন।


বেঙ্গল ফুটবল নিউজ ডেস্ক১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

       ফের কলঙ্কিত বাংলার ফুটবল। এবার কাঠগড়ায় খোদ আইএফএ -এর ভাইস প্রেসিডেন্ট। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সার্দান সমিতি বনাম ভবানীপুর ম্যাচের ময়দানে। প্রিমিয়ার লিগের 'বি' ডিভিশনের খেলায় এদিন হাওড়া কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল সার্দান সমিতি এবং ভবানীপুর। উত্তেজনা পূর্ণ এই ম্যাচ শুরু হলেও বিপত্তি বাঁধে খেলার বিরতিতে। বিরতির পর হঠাৎ-ই এদিন রেফারির নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে ম্যাচ চালু করতে অস্বীকার করেন সেই ম্যাচের রেফারি প্রবীর ধর। আর তা নিয়েই এদিন শুরু হয় বিপত্তি।


     এদিনের ম্যাচ পুলিশের অনুপস্থিতিতেই শুরু করেছিলেন রেফারি প্রবীর ধর। কিন্তু খেলা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এদিন রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট হন সার্দান সমিতির ফুটবলাররা। গ্যালারি থেকে সার্দান সমর্থকেরাও রেফারি এবং সহকারী রেফারিকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করতে থাকেন। এমনকি জলের বোতলও ছুঁড়ে ফেলা হয় খেলার মাঠে। ফলস্বরূপ খেলার বিরতির পর ফের খেলা শুরু করতে অস্বীকার করেন ম্যাচ রেফারি প্রবীর ধর। তারপরই পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও মারাত্মক।




   বিরতির পর খেলা শুরু না করার দরুন রেফারির সঙ্গে বচসায় জড়ান ফুটবলাররা। দাবী জানান যে নিরপত্তাহীনতা থাকলে আগেই পুলিশ ছাড়া কেনো ম্যাচ শুরু করেছিলেন রেফারি। আর যখন শুরু করেই দিয়েছেন তবে বিরতির পর খেলা মাঝ রাস্তায় ফেলে রেখেছেন কেনো?  

     এই বচসার মাঝেই হঠাৎ সেসময় ময়দানে প্রবেশ করেন আইএফএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামল মিত্র, দুই লাঠিবাহী পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে। খেলার ময়দানে হঠাৎ পুলিশ ঢুকে পরা নিয়ম বিরুদ্ধ হওয়ায় তা নিয়ে সেসময় অভিযোগ আনেন সার্দান গোলরক্ষক সংগ্রাম মুখোপাধ্যায়। সংগ্রামের এহেন অভিযোগের দরুন তাকে এরপর কারারুদ্ধ করার হুমকি দিয়ে বসেন আইএফএ কর্তা শ্যমাল মিত্র। এরপরই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গড়ায়। শ্যামল মিত্রের কথায় উত্তেজিত হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান সার্দানের অধিনায়ক শ্যাম মন্ডল। ঝামেলা বাঁধে শ্যামল মিত্রের সঙ্গে। কথায় কথায় উত্তেজনা বশত শ্যামল মিত্র চর-ও কষিয়ে দেন শ্যাম মন্ডলের গালে। ফলস্বরূপ যা হওয়ার তা-ই হয়, ময়দানের পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও উত্তপ্ত।


       আইএফএ কর্তা ফুটবলারের গায়ে হাত তোলার দরুন এরপর ময়দানের বাকী ফুটবলারও প্রতিবাদে নেমে আসেন। আর সেসমই সেই ফুটবলারদের ওপর লাঠি চার্জ করেন ওই দুই লাঠিবাহী পুলিশ। সেসময়ই গ্যালারি থেকে সার্দান সমর্থকেরা নেমে এসে চড়াও হন শ্যামল মিত্রের ওপর।  ময়দানে যখন এহেন বিশৃঙ্খলা চলছে সেসমই হঠাৎ ময়দানে এক ঝাঁক পুলিশ নিয়ে উপস্থিত হন মন্ত্রী অরূপ রায়। শেষ অবধি তাঁর পুলিশ বাহিনীই ময়দানের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরিস্থিতির দায়ে ম্যাচটি বাতিল হওয়ার দরুন একে একে সমস্ত ফুটবলার, ক্লাব কর্তা এবং সমর্থকদের মাঠ থেকে বেড় করে দেন তাঁরা।

        এরপর এই ঘটনা প্রসঙ্গে শ্যামল মিত্র জানান যে তিনি সার্দানের অধিনায়ক শ্যাম মন্ডলের বিরুদ্ধে এই বিষয়ে পুলিশের নিকট অভিযোগ জানাবেন। তবে এই বিষয়ে পাল্টা সার্দান কর্তা জানান যে ঘটনাটির ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে তাদের হাতে। কাজেই ভুলটি কার তা সেখান থেকেই বোঝা যাবে। শোনা যাচ্ছে যে আইএফএ-এর নিকট সেই ভিডিও টি জমা দিতে চলেছেন সার্দান কর্তা। শেষ অবধি কে কার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন তা আইএইএ থেকেই জানা যাবে। তবে এই ঘটনাটি যে বাংলার ফুটবল জগতে এক অতি লজ্জাজনক ঘটনা হয়ে রইল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

No comments